প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

জোনাকী অনলাইন লাইব্রেরীতে আপনাকে স্বাগতম | জোনাকী যদি আপনার ভালো লাগে তবে আপনার বন্ধুদের সাথে লিংকটি শেয়ার করার অনুরোধ জানাচ্ছি | এছাড়াও যারা ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী তারা jaherrahman@gmail.com এ মেইল করার অনুরোধ করা হচ্ছে | আপনার অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হোক আপনার প্রিয় অনলাইন লাইব্রেরী। আমাদের সকল লেখক, পাঠক- শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা- অভিনন্দন।

বাদশা মিয়া by জুবায়ের হুসাইন


আকাশের দিকে তাকালেন বাদশা মিয়া। ভেবেছিলেন খোলা আকাশ দেখবেন। কিন্তু এই শহরে খোলা আকাশ দেখার আশা করা ডুমুরের ফুল দেখার মতো। প্রতিনিয়ত এক সারি ইটের মাঝে সিমেন্ট-বালির মিশ্রণ ঢেলে আরেক সারি ইট গেঁথে তৈরি হচ্ছে আকাশচুম্বি অট্টালিকা। সেখানে কোথায় আসমানি আকাশের দর্শন?
কারেন্টের তারের ওপর বসে ছিল কয়েকটা কাক। তাদেরই একটার বুঝি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার সময় হলো তখন। ‘টপ’ করে উষ্ণ পদার্থটুকু এসে পড়ল বাদশা মিয়ার কপালের ঠিক মাঝখানটিতে। চুন বর্ণের ওই পদার্থ তখন বেয়ে নিচে নামতে শুরু করেছে।
ভ্র কুঁচকে ফেললেন বাদশা মিয়া। বাম হাতটা উঠিয়ে নেয়ার আগে একটু অন্যরকম উষ্ণতা অনুভব করলেন এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও। পড়ন্ত বিকেল, কিন্তু গরম কমার নাম নেই।

ভেজা পদার্থটা বাম হাতের আঙুলে লাগিয়ে চোখের সামনে ধরলেন। মুহূর্তে কুঁচকে ফেললেন কপালের চামড়া। বিশ্রি গন্ধ বের হচ্ছে ওটা থেকে। নাকমুখ এমনিতেই কুঁচকে গেল তার। ইচ্ছা করল গলার সমস্ত জোর কণ্ঠনালীতে এনে মনের সমস্ত ঝাল মিটিয়ে গালাগাল করে ওই হতচ্ছাড়া কালো পাখিগুলোকে। কিন্তু কী মনে হতে তা আর করলেন না। হয়তো ভাবলেন, ওরা তো আর আগেপিছে ভেবে কিছু করেনি। ওরা তো জানে না যে এই সাদা পদার্থটুকু দুর্গন্ধ ছাড়ায় আর মানব জাতির নাক কুঁচকানোর বিষয়ে পরিণত হয়। তাছাড়া ওরা তো অবুঝ জীব। যেখানে বুঝওয়ালা মানুষই নানা সময়ে নানা অকাজ করে যেগুলো তার দ্বারা সম্পন্ন হওয়া শোভা পায় না, জেনে-শুনে-বুঝেই অপরজনকে কষ্ট দেয়- সেখানে কাক নামের ওই সামান্য পাখি মামুলি এ কাজটা করেছে অর্থাৎ কোথাকার কোন্ বাদশা মিয়ার চার আঙুল সমান কপালটাকে ‘ইয়ে’ করে দিয়েছে, এটা নিয়ে ভাববার সময়ই বা কই?

আশেপাশে টিউবওয়েল খুঁজলেন। নাহ্, নেই। কাগজ খুঁজলেন। তাও পেলেন না। পাশের দেয়ালে কিসের যেন পোস্টার সাঁটা আছে। সেখান থেকে কাগজ ছিঁড়ে নিলেন। হাত ও কপাল মুছে ফেললেন। কিন্তু তাতেও মনে স্বস্তি পাচ্ছেন না। বমি বমি আসছে তার। কাকের ইয়েতে এতো দুর্গন্ধ তা তিনি আগে জানতেন না। আর জানলেও বা কী হতো? না, কিছুই হতো না। তিনি পারতেন না আজকের এই ঘটনাটা এড়াতে। হয়তো পারতেন। কীভাবে? হ্যাঁ পারতের যদি একটা গাজেরো গাড়ি তার থাকত। আর পাজেরো না হলেও অন্তত যদি তারই কলিগ মতিন চৌধুরীর মতো একটা সেকেন্ডহ্যান্ট ট্যাক্সি-কারও থাকত। নাইবা থাকল পাজেরো বা মতিন চৌধুরীর মতো সেকেন্ডহ্যান্ড ট্যাক্সি-কার, বাদশা মিয়া যদি নিদেনপক্ষে একটা রিকশা করে বাড়ি ফিরতে পারতেন তাহলেও এটা এড়াতে পারতেন। সত্যিই কি পারতেন এড়াতে?

বাদশা মিয়া এসব নিয়ে আর ভাবতে চান না। মাথাটা কেমন ঝিম ধরে আসে। দুপুরে আজ কেবল দু’টো সিঙারা দিয়ে লাঞ্চ সেরেছেন তিনি। পেটটা তাই একটু কেমন যেন চিনচিন করছে। বাঁ-পাশটায় কী একটা নড়ে নড়ে উঠছে। বাদশা মিয়া আশঙ্কা করছেন এটা এসিডিটির কারণেই হচ্ছে। বেশ কয়েকদিন যাবৎ বিষয়টা লক্ষ্য করছেন তিনি। তিনি ঘুণাক্ষরেও কখনো ভাবেননি যে তার কোনোদিন এসিডিটি হবে।

বাদশা মিয়া অফিস করে বাড়ি ফিরছিলেন। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। বেতন মিডিয়াম ক্লাসের। তাতে ভালোই চলে যায় তার। কিন্তু জিনিসপত্রের অসহনীয় মূল্য বৃদ্ধিতে এখন আর তিনি পেরে উঠছেন না। ওদিকে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচও বেড়ে গেছে। ভালো কোনো স্কুল বা কলেজে পড়াতে গেলেই মাস গেলে একগাদা টাকা গুনতে হচ্ছে। বেতনের সিংহভাগটাই এখন ব্যয় হয়ে যায় ছেলেমেয়েদের পেছনে। ইদানীং আরেকটা বিষয় তাকে প্রচণ্ডভাবে পীড়া দিচ্ছে। তিনি অপাত্রে তার শ্রম-অর্থ ঢালছেন নাতো? বড় হয়ে ছেলেমেয়েগুলো তাকে দেখবে তো? যে হারে পারিবারিক বন্ধন এদেশে ভেঙে পড়ছে, তাতে তার এ আশঙ্কাটা কি একেবারেই অমূলক?

বাদশা মিয়া ভাবেন, বর্তমান সমাজের যাবতীয় অসামাজিক কর্মকাণ্ডের মূলে এই পারিবারিক বন্ধনে শিথিলতা। এখন যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, না বললেও সবাই একবাক্যে যে বিষয়টির দিকে অঙুলি নির্দেশ করবে, তা হলো ইভটিজিং। বাদশা মিয়া ভাবেন, কোত্থেকে এলো এই নোংরা জিনিসটা? তাদের সময় তো এটা ছিল না। কিংবা থাকলেও সেটা চোখে পড়ার মতো ছিল না। আসলে ইভটিজিং হচ্ছে সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস করার একটা কৌশল মাত্র। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুসরণই দেশের তরুণ সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে ওইসব নোংরামির দিকে। যদি পরিবার থেকেই একজন সন্তানকে ঠিকভাবে শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলা হতো, তাহলে চিত্রটা কেমন হতো? ঠিক তাদের আদর্শপাড়া গ্রামটার মতো ভাবেন বাদশা মিয়া। আর ভাবেন, এখনও এই অবস্থা থেকে হয়তো উত্তরণ সম্ভব, যদি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

আর কী সব মাথায় ঢুকে চিন্তাটাকে তালগোল পাকিয়ে দিতে লাগল বাদশা মিয়ার। তাই আর ভাবতে চাইল না। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, এবং এটাই চান, তার সন্তানরা তাকে নিরাশ করবে না। তাদেরকে তিনি সেভাবেই গড়ে তুলছেন ছোটবেলা থেকেই।

একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন বাদশা মিয়া। নিশ্বাসের সাথে কেমন গরমের হলকা বের হলো বলে মনে হলো। একটু যেন চমকালেন তাতে। নিজের অজান্তেই ডান হাতটা উঠে গেল কপালে। হাতের কব্জির এপিঠ-ওপিঠ দিয়ে শরীরের তাপ অনুভব করার চেষ্টা করলেন। একটু গরম ঠেকল না? হ্যাঁ, গরমই তো! বাদশা মিয়া বুঝলেন তার জ্বর আসছে। গরমের শরীরে ঘাম জমে ঠাণ্ডা লেগে গেছ। নাকের মধ্যে কেমন সুরসুর করে উঠল। কয়েক সেকেন্ড পর বিকট শব্দে একটা হাঁচি বেরিয়ে এলো। তারপরই নাক দিয়ে তরল পদার্থ বের হতে লাগল।
জ্বরের সাথে সর্দিও শুরু হয়েছে বাদশা মিয়ার।

বাদশা মিয়ার এখন পকেট খালি। যাকে বলে Hard up now, তাই ভয়ানক দুশ্চিন্তাতে ভুগছেন তিনি।
এই একটু আগে ঘটেছে ঘটনাটা।
বেলা চারটা পর্যন্ত অফিস করে সিএনজি করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। মনটা বেশ খুশি খুশি লাগছিল।
কয়েক বছর ধরে এক জায়গায় কিছু টাকা জমাচ্ছিলেন তিনি। মাঝে বাদ দিয়েছিলেন, মানে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাই ওটার কথা আর মনেও ছিল না। আজই ওরা এসে টাকাটা দিয়ে গেছে। সে কারণেই আজ তার আনন্দ লাগছিল আর দ্রুত বাড়ি ফেরার জন্য সিএনজিতে চড়ে বসেছিলেন তিনি।

বাদশা মিয়ার মনের মধ্যে এখন একসাথে অনেকগুলো অপূরণীয় স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্নগুলো দেখে আসছেন তিনি। সেগুলো ক্রমান্বয়ে ডালপালা বিস্তার করতে করতে ছড়িয়ে গেছে সমস্ত দেহের মধ্যে। সেইসকল ডালপালা তিনি এক এক করে ভরে দেবেন, তবে পাতা বা ফুল-ফল দিয়ে নয়, সুপ্ত আশাগুলোকে বাস্তবে রূপ দান করে। সেটাও অবশ্য এক প্রকার সবুজ পত্রপল্লব আর পুষ্প ও ফলাদি দিয়ে ডাল ভরে দেয়ার মতোই ভাবলেন বাদশা মিয়া।
অথচ...

শহরটা এখন বেশ ব্যস্ত। অথচ তিনি যখন প্রথম এসেছিলেন এই শহরে, তাও আজ থেকে প্রায় পাঁচ-সোয়া পাঁচ বছর হবে, তখন শহরটা এত ব্যস্ত ছিল না। বেশ শান্ত আর ছিমছাম ছিল রাস্তাঘাট, অলিগলি। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছা না গেলেও এখনকার মতো অনির্ধষ্ট সময় লাগত না। প্রায় প্রতিটা রাস্তার মোড়েই জ্যাম লেগে থাকে। দেখলে মনে হয় একদল পিঁপড়ে চলেছে একজন সঙ্গীর সন্ধান দেয়া কোনো খাদ্য বয়ে বাসায় আনতে, আগামী দিনের সঞ্চয়ের উদ্দেশে। অথবা ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার দৃশ্যের কথা তাৎক্ষণিকভাবে মাথায় চলেও আসতে পারে।
এমনই এক জ্যামে পড়েছিলেন বাদশা মিয়া।

খোশ মেজাজে মনে মনে পুরনো দিনের একটা বাংলা গান ভাজছিলেন তিনি। তাই খেয়াল করে পারেননি সিএনজি চালক কখন তার মোবাইলে কথা সেরে নিয়েছে।
সবুজ বাতি জ্বলতেই আবার গাড়িগুলো চলতে শুরু করল। কিছু পথ যেয়ে আবারও সিগন্যাল। অবশ্য এবারেরটা তাড়াতাড়িই ছেড়ে গেল। আর একটু পথ যেতেই ঘটল ঘটনাটা, বাদশা মিয়ার জীবনে এই প্রথম...
সিএনজি ড্রাইভার হঠাৎ একটু স্লো করে ফেলল তার সিএনজি। রাস্তার দু’পাশ থেকে হাজির হল আরও জনা চারেক লোক। এসে ঘিরে ধরল বাদশা মিয়াসহ তার সিএনজিকে। দু’পাশ থেকে দু’জন উঠেও পড়ল।

ভয়ে জড়সড় হয়ে গেলেন বাদশা মিয়া। বললেন, ‘এ্যা..এ্যা..এ্যাই, কী চাও তোমরা? গাড়িতে উঠে পড়লে যে! এটা তো আমি ভাড়া করেছি।’ আরও কী সব বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাকে মাঝপথেই থেমে যেতে হলো, বরং বাধ্য হলেন থেমে যেতে। কেননা, তার কথার জবাবে লোকগুলোর একজন ধারালো চকচকে ছুরির ফলা ও একজন পিস্তলের বাট দেখালো তাকে, অত্যন্ত নরমভাবে, অথচ হিংস্রতার সাথে।
ভীষণভাবে চমকে উঠলেন বাদশা মিয়া। তোতলাতে লাগলেন, ‘এ.. এ.. এ.. এ কী! কারা তোমরা? দে.. দে.. দেখ, আ.. আ..মি কিন্তু এসবের দারুণ ভয় পাই!’
ওদের মধ্যে এবার একজন বলে উঠল, ‘তাইলে কোনো কথা না কইয়া যা আছে সব দিয়া দাও তো চান।’
‘মা.. মা.. মানে?’ ঢোক গিললেন বাদশা মিয়া।
পূর্বের জনই বলল আবার, ‘ন্যাকা! কিছু বুঝবার পারছ না, তাই না? বের কর শালা যা আছে।’ পিস্তলের নল নাচালো সে এবার। আর তাতে ‘কোত্’ করে একটা ঢোক গিললেন বাদশা মিয়া।
‘ঠি.. ঠি.. ঠিক আছে, দিচ্ছি সব। আগে ও.. ওগুলো সরিয়ে নাও..।’ বললেন তিনি।
বাদশা মিয়া এরপর উঁকি দিয়ে বাইরে তাকাতে চাইলেন, যদি পুলিশ বা এই জাতীয় কাউকে পাওয়া যায়। কিন্তু তিনি মুখ বাড়াতে যেতেই চাপাকণ্ঠে গর্জে উঠল লোকটা, ‘কোনো চালাকির চেষ্টা কোরো না মিয়া। জলদি কর।’
নিজের কাছে যা ছিল সব বের করে দিলেন বাদশা মিয়া। বরং বলা যায় লোক দু’টো ছিনিয়ে নিল সব।
সব কিছু নেয়া হয়ে গেছে, যখন ভাবল লোকগুলো, তখন একজন বলল, ‘শালা কোনো গ্যান্জাম করবি না। সোজা চইলা যাবি। একবারও পেছন ফিইরা তাকাবি না। যদি তাকাস্, তইলে কলাম...’ হাতের ছোরাটা বিশষ ভঙ্গিতে নাচাল।
বাকিটা আর না বললেও বুঝে নিলেন বাদশা মিয়া। তাই দ্রুত নেমে গেলেন সিএনজি থেকে। তারপর গলিপথটা ধরে হাঁটা ধরলেন। অনেক কষ্টে পেছন ফিরে তাকানো থেকে নিজেকে সামলে রাখলেন।
মনটা তার গুড়িয়ে যাচ্ছে অসহ্য বেদনায়। সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন তিনি। কপর্দকশূন্য। সারা দেহটা থরথর করে কেঁপে উঠল। গায়ের বল হারিয়ে ফেলছেন তিনি।

গলিপথটা বাঁক নিতেই আর ধৈর্য ধরতে না পেরে পেছন ফিরে তাকালেন তিনি। না, নেই সিএনজিটা। সেখানেই সেভাবে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনি।
মনে হল বিশাল আকাশটা তার মাথার উপর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে। টলছেন তিনি। পা দু’টো অসাড় হয়ে আসতে চাইছে। ঠাল সামলাতে ফুটপাথে বসে পড়লেন। দু’হাত দিয়ে চেপে ধরলেন মাথা। ওখানকার, কপালের দু’পাশের রগ দু’টো দপ্দপ্ করে লাফাচ্ছে। তলপেটের নিচে চিনচিন করে ব্যথা করে উঠল হঠাৎ। সেইসাথে ঘাড়ের পেছনটাতেও মৃদু চিনচিনে ভাব উপলব্ধি করলেন।
‘উহ্!’ আর্তনাদ করে উঠলেন তিনি। তার সমস্ত স্বপ্ন, সমস্ত আশা, সমস্ত চাওয়া নিমিষেই গুড়িয়ে গেছে। কতদিন ধরে দেখতে থাকা স্বপ্নটা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছিল, হঠাৎ করেই সব আবার শেষ হয়ে গেল।
চোখ জোড়া ঝাঁপসা হয়ে আসতে চাইছে। তবে প্রবল মানসিক শক্তির অধিকারী বাদশা মিয়া অবশেষে উঠে দাঁড়ালেন। এভাবে ভেঙে পড়লে তো আর হবে না। তাকে চলতে হবে। তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা পথ চেয়ে আছে।
বাদশা মিয়া প্রবলভাবে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন। যে সৃষ্টিকর্তা তাকে সৃষ্টি করেছেন, এতদিন ধরে একান্ত মেহেরবানী করে বাঁচিয়ে রেখেছেন, সেই সৃষ্টিকর্তা তাকে নিরাশ করতে পারেন না এ বিশ্বাসটুকু তার আছে। আজ একটু আগে যে ঘটনাটা তার জীবনে ঘটে গেল, তার পেছনেও নিঃসন্দেহে কোনো উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। তাই ভাঙতে ভাঙতে ভাঙলেন না বাদশা মিয়া।
চলতে লাগলেন তিনি। চলাই যে এখন তার সম্বল। আর কিছুদূর হাঁটার পর যখন তিনি উপরের দিকে তাকিয়েছেন মাথার উপরের নীল আকাশটা দেখতে পাবার প্রত্যাশায়, তখনই কাকটা প্রাকৃতিক কর্ম সেরে নিয়েছে।

শীত করছে বাদশা মিয়ার খুব। তারমানে জ্বরের বেগ বাড়ছে। এই একটু আগেও তিনি ঘামছিলেন ছিনতাইকারীদের শিকারে পরিণত হওয়ার সময়। এমনকি যখন সিএনজিতে করে আসছিলেন, তখনও। আর এখন তিনি রীতিমতো কাঁপছেন, প্রচণ্ড শীত তার সমস্ত দেহকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে।
সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এখনও বেশ কিছুটা পথ তাকে যেতে হবে। তাই চলার গতি বাড়িয়ে দিলেন।
‘আরে বাদশা না? তাইতো, বাদশাই তো। এ্যাই বাদশা?’
থমকে দাঁড়ালেন বাদশা মিয়া। কে তাকে নাম ধরে ডাকে? ‘কে?’ মুখ তুলে তাকালেন তিনি। মুহূর্তে হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। অস্ফূটে বলে উঠলেন, ‘আরে রাজা যে!’
রাজা বললেন, ‘হ্যাঁ বন্ধু আমি। তা ীক ব্যাপার? তুমি এই অসময়ে হেঁটে কোথায় যাচ্ছ?’
‘বলব সব, আগে চল কোথাও গিয়ে বসি।’ এক্ষণে মনে বেশ বল পাচ্ছেন বাদশা মিয়া।
তারা দু’জন নিরিবিলি একটা জায়গা দেখে বসে পড়লেন। তারপর বাদশা মিয়া শুরু করলেন একটু আগে ঘটে যাওয়া তার জীবনের তীক্ত অভিজ্ঞতার কথা।
রাজা ও বাদশা দু’জন ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। একই স্কুল, একই কলেজ ও ভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছেন তারা। তারপর রাজা শুরু করেছেন ব্যবসা আর বাদশা প্রাইভেট কোম্পানিতে ঢুকেছেন। এরপর কেটে গেছে অনেকগুলো দিন। মাঝে মাঝে ফোনে আলাপ ছাড়া সরাসরি কথা হয় না বললেই চলে। অনেক দিন পর আজ আবার মিলিত হয়েছেন দু’বন্ধু। কিন্তু একটা বিমর্ষ ভাব বিরাজ করছে। রাজা চাইলেন পরিবেশটা হালকা করতে। কিন্তু বাদশা কিছুতেই হালকা হতে পারছেন না। কিভাবেই বা হবেন?
রাজা বললেন, ‘দোস্ত, তুমি কোনো চিন্তা কোরো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। এক কাজ কর, কাল একবার আমার সাথে দেখা কর। দেখি কী করা যায়।’
‘মানে?’ বাদশা মিয়া কিছু বুঝতে না পেরে ফ্যালফ্যাল করে রাজার দিকে তাকিয়ে থাকেন।
‘আরে দোস্ত, বিপদে যদি কাজেই লাগতে না পারলাম তো কিসের বন্ধু, অ্যাঁ?’
‘কিন্তু...’
‘কোনো কিন্তু নয়। এখন বাড়ি যাও। আর শোনো, ভাবিকে কিছু বলার দরকার নেই। পরে আমিই সব বুঝিয়ে বলব। ও.কে?’
‘ঠিক আছে, তুমি যখন বলছ।’
একটা রিকশা ডেকে তাতে বাদশাকে মিয়াকে উঠিয়ে দিলেন রাজা। তাকে কিছু টাকাও দিয়ে দিলেন।
বাদশা মিয়া রিকশায় করে বাড়ি ফিরে এলেন। হাজার চেষ্টা করেও স্ত্রীর সামনে স্বাভাবিক হতে পারছেন না। তবে তাকে কিছু বুঝতেও দিলেন না। স্ত্রীর কথায় ‘হু-হ্যাঁ’ করে সায় দিয়ে গেলেন শুধু।
বাদশা মিয়া জানেন রাজা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি এবং ভালোভাবে। রাজা যে ব্যবসা করেন তার সম্পর্কে একেবারে সবকিছুই না জানলেও যেটুকু জানেন তাতেই তার প্রকৃতি সম্পর্কে অনুমান করে নিতে পারেন। ভাবছেন তার কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়া ঠিক হবে না। আবার নিজের অবস্থা সম্পর্কেও ভাবছেন। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পারছেন না। দারুণ অস্বস্তিতে ছটফট করছেন। ঘুম আসছে না।
স্ত্রী আয়েশা বানু খেয়াল করলেন বিষয়টা। জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে তোমার? অমন করছ কেন?’
‘উঁ! না, কিছু না।’ সংক্ষিপ্ত জবাব দিলেন বাদশা মিয়া।
‘আমার কাছে লুকাচ্ছ কেন? বল না কি হয়েছে তোমার?’ আয়েশা বানুও নাছোড়বান্দা।
বাদশা মিয়া চুপ রইলেন।
আয়েশা বানু বললেন, ‘অফিসে কিছু হয়েছে?’
‘না।’
‘তবে? তোমাকে এমন চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?’
বাদশা মিয়া সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না সব তাকে বলা ঠিক হবে কি না। এ জগতে তার স্ত্রীই তার সবচেয়ে কাছের মানুষ, শুভাকাক্সক্ষী, বন্ধু। পরম হিতৈষী, বিপদে ব্যথার গায়ে সুখের পরশ লেপনকারী।
কাজেই তাকে বোধহয় সব বলা যায়।
মনস্থির করে ফেললেন বাদশা মিয়া। পাশ ফিরলেন।
‘বল কী?(!)’ সব শুনে বললেন আয়েশা বানু।
‘এখন আমি কী করব তুমিই বলে দাও। আমি.. আমি...’ কথা হারিয়ে ফেলেন বাদশা মিয়া।
আয়েশা বানুও কিছু বলতে পারেন না খানিকক্ষণ। তারপর বললেন, ‘যা হবার তা তো হয়েই গেছে। এখন যদি তুমি ভেঙে পড়ো তাহলে ছেলেমেয়েদেরকে সান্ত¡না দেবে কে?’
‘কিন্তু আমি তো ওদেরকে কথা দিয়েছি! এখন কী করব?’
একটু ভাবলেন আয়েশা বানু। তারপর বললেন, ‘সে দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দাও। আমিই ওদেরকে বুঝিয়ে বলব।’
‘কী বুঝিয়ে বলবে তুমি?’
‘ওসব তোমাকে ভাবতে হবে না।’ বললেন আয়েশা বানু।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন বাদশা মিয়া। বললেন, ‘যাক, একটা দুঃশ্চিন্তা থেকে আমাকে বাঁচালে। কিন্তু...’
‘আবার কিন্তু কিসের? এখন ঘুমাও। কাল একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’
‘কিন্তু কী ব্যবস্থা করবে তুমি?’
‘আমার উপর তোমার বিশ্বাস নেই?’
‘এ কথা কেন বলছ? তুমি ছাড়া কে আমাকে ভালো বোঝে বল? তুমি পাশে আছো বলেই তো আমি এতটা পথ পাড়ি দিতে পেরেছি। আমি নিশ্চিন্ত থেকেছি তোমার উপর ভরসা করে।’
‘যাহ্। তুমি একটু বাড়িয়েই বলছ।’
বাদশা মিয়া একটু হালকা হলেন। এবার নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।
রাজার কাছে হাত পাতার ইচ্ছা তারও ছিল না। বাধ্য হয়েই সে কাজ করতে যাচ্ছিলেন তিনি। এক্ষণে মনে হচ্ছে বুকের ওপর থেকে ইয়া বড় এক জগদ্দল পাথর নেমে গেছে।
চোখ জোড়া আপনাতেই বুজে এলো তার।

সূত্র : সোনার বাংলাদেশ

Stumble
Delicious
Technorati
Twitter
Facebook

0 Comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত দিন

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

কবিতা ছোটগল্প গল্প নিবন্ধ ছড়া টিপস রম্য গল্প প্রেমের কবিতা ইসলামী সাহিত্য স্বাস্থ্য কথা কৌতুক কম্পিউটার টিপস জানা অজানা লাইফ স্ট্যাইল স্বাধীনতা স্থির চিত্র ইসলাম ফিচার শিশুতোষ গল্প কবি পরিচিতি প্রবন্ধ ইতিহাস চিত্র বিচিত্র প্রকৃতি বিজ্ঞান রম্য রচনা লিরিক ঐতিহ্য পাখি মুক্তিযুদ্ধ শরৎ শিশু সাহিত্য বর্ষা আলোচনা বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বীরশ্রেষ্ঠ লেখক পরিচিতি স্বাস্থ টিপস উপন্যাস গাছপালা জীবনী ভিন্ন খবর হারানো ঐতিহ্য হাসতে নাকি জানেনা কেহ ছেলেবেলা ফল ফুল বিরহের কবিতা অনু গল্প প্রযুক্তি বিউটি টিপস ভ্রমণ মজার গণিত সংস্কৃতি সাক্ষাৎকার ঔষধ গবেষণা ডাউনলোড প্যারডী ফেসবুক মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য রম্য কবিতা সাধারণ জ্ঞান সাহিত্যিক পরিচিতি সায়েন্স ফিকশান স্বাধীনতার কবিতা স্বাধীনতার গল্প কৃষি তথ্য চতুর্দশপদী প্রেমের গল্প মোবাইল ফোন রুপকথার গল্প কাব্য ক্যারিয়ার গৌরব জীবনের গল্প ফটোসপ সবুজ সভ্যতা
অতনু বর্মণ অদ্বৈত মারুত অধ্যাপক গোলাম আযম অনন্ত জামান অনিন্দ্য বড়ুয়া অনুপ সাহা অনুপম দেব কানুনজ্ঞ অমিয় চক্রবর্তী অরুদ্ধ সকাল অর্ক অয়ন খান আ.শ.ম. বাবর আলী আইউব সৈয়দ আচার্য্য জগদীশচন্দ্র বসু আজমান আন্দালিব আতাউর রহমান কাবুল আতাউস সামাদ আতোয়ার রহমান আত্মভোলা (ছন্দ্রনাম) আদনান মুকিত আনিসা ফজলে লিসি আনিসুর রহমান আনিসুল হক আনোয়ারুল হক আন্জুমান আরা রিমা আবদুল ওহাব আজাদ আবদুল কুদ্দুস রানা আবদুল গাফফার চৌধুরী আবদুল মান্নান সৈয়দ আবদুল মাবুদ চৌধুরী আবদুল হাই শিকদার আবদুল হামিদ আবদুস শহীদ নাসিম আবিদ আনোয়ার আবু মকসুদ আবু সাইদ কামাল আবু সাঈদ জুবেরী আবু সালেহ আবুল কাইয়ুম আহম্মেদ আবুল মোমেন আবুল হাসান আবুল হায়াত আবুল হোসেন আবুল হোসেন খান আবেদীন জনী আব্দুল কাইয়ুম আব্দুল মান্নান সৈয়দ আব্দুল হালিম মিয়া আমানত উল্লাহ সোহান আমিনুল ইসলাম চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মামুন আরিফুন নেছা সুখী আরিফুর রহমান খাদেম আল মাহমুদ আলম তালুকদার আশীফ এন্তাজ রবি আসমা আব্বাসী আসাদ চৌধুরী আসাদ সায়েম আসিফ মহিউদ্দীন আসিফুল হুদা আহমদ - উজ - জামান আহমদ বাসির আহমেদ আরিফ আহমেদ খালিদ আহমেদ রাজু আহমেদ রিয়াজ আহসান হাবিব আহসান হাবীব আহাম্মেদ খালিদ ইকবাল আজিজ ইকবাল খন্দকার ইব্রাহিম নোমান ইব্রাহীম মণ্ডল ইমদাদুল হক মিলন ইলিয়াস হোসেন ইশতিয়াক ইয়াসির মারুফ উত্তম মিত্র উত্তম সেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এ কে আজাদ এ টি এম শামসুজ্জামান এ.বি.এম. ইয়াকুব আলী সিদ্দিকী একরামুল হক শামীম একে আজাদ এনামুল হায়াত এনায়েত রসুল এম আহসাবন এম. মুহাম্মদ আব্দুল গাফফার এম. হারুন অর রশিদ এরশাদ মজুদার এরশাদ মজুমদার এস এম নাজমুল হক ইমন এস এম শহীদুল আলম এস. এম. মতিউল হাসান এসএম মেহেদী আকরাম ওমর আলী ওয়াসিফ -এ-খোদা ওয়াহিদ সুজন কবি গোলাম মোহাম্মদ কমিনী রায় কাজী আনিসুল হক কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক কাজী নজরুল ইসলাম কাজী মোস্তাক গাউসুল হক শরীফ কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম কাপালিক কামরুল আলম সিদ্দিকী কামাল উদ্দিন রায়হান কার্তিক ঘোষ কায়কোবাদ (কাজেম আলী কোরেশী) কৃষ্ণকলি ইসলাম কে এম নাহিদ শাহরিয়ার কেজি মোস্তফা খন্দকার আলমগীর হোসেন খন্দকার মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ্ খান মুহাম্মদ মইনুদ্দীন খালেদ রাহী গাজী গিয়াস উদ্দিন গিরিশচন্দ সেন গিয়াস উদ্দিন রূপম গোলাম কিবরিয়া পিনু গোলাম নবী পান্না গোলাম মোস্তফা গোলাম মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার চন্দন চৌধুরী চৌধুরী ফেরদৌস ছালেহা খানম জুবিলী জ. রহমান জসিম মল্লিক জসীম উদ্দিন জহির উদ্দিন বাবর জহির রহমান জহির রায়হান জাওয়াদ তাজুয়ার মাহবুব জাকির আবু জাফর জাকির আহমেদ খান জাকিয়া সুলতানা জান্নাতুল করিম চৌধুরী জান্নাতুল ফেরদাউস সীমা জাফর আহমদ জাফর তালুকদার জাহাঙ্গীর আলম জাহান জাহাঙ্গীর ফিরোজ জাহিদ হোসাইন জাহিদুল গণি চৌধুরী জায়ান্ট কজওয়ে জিয়া রহমান জিল্লুর রহমান জীবনানন্দ দাশ জুবাইদা গুলশান আরা জুবায়ের হুসাইন জুলফিকার শাহাদাৎ জেড জাওহার জয়নাল আবেদীন বিল্লাল ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া ড. কাজী দীন মুহম্মদ ড. ফজলুল হক তুহিন ড. ফজলুল হক সৈকত ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ ড. মুহা. বিলাল হুসাইন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ড. রহমান হাবিব ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ডক্টর সন্দীপক মল্লিক ডা. দিদারুল আহসান ডা: সালাহ্উদ্দিন শরীফ তমিজ উদদীন লোদী তাজনীন মুন তানজিল রিমন তাপস রায় তামান্না শারমিন তারক চন্দ্র দাস তারাবাঈ তারেক রহমান তারেক হাসান তাসনুবা নূসরাত ন্যান্সী তাসলিমা আলম জেনী তাহমিনা মিলি তুষার কবির তৈমুর রেজা তৈয়ব খান তৌহিদুর রহমান দর্পণ কবীর দিলওয়ার হাসান দেলোয়ার হোসেন ধ্রুব এষ ধ্রুব নীল নঈম মাহমুদ নবাব আমিন নাইমুর রশিদ লিখন নাইয়াদ নাজমুন নাহার নাজমুল ইমন নাফিস ইফতেখার নাবিল নাসির আহমেদ নাসির উদ্দিন খান নাহার মনিকা নাহিদা ইয়াসমিন নুসরাত নিজাম কুতুবী নির্জন আহমেদ অরণ্য নির্মলেন্দু গুণ নিসরাত আক্তার সালমা নীল কাব্য নীলয় পাল নুরে জান্নাত নূর মোহাম্মদ শেখ নূর হোসনা নাইস নৌশিয়া নাজনীন পীরজাদা সৈয়দ শামীম শিরাজী পুলক হাসান পুষ্পকলি প্রাঞ্জল সেলিম প্রীতম সাহা সুদীপ ফকির আবদুল মালেক ফজল শাহাবুদ্দীন ফররুখ আহমদ ফাতিহা জামান অদ্রিকা ফারুক আহমেদ ফারুক নওয়াজ ফারুক হাসান ফাহিম আহমদ ফাহিম ইবনে সারওয়ার ফেরদৌসী মাহমুদ ফয়সাল বিন হাফিজ বাদশা মিন্টু বাবুল হোসেইন বিকাশ রায় বিন্দু এনায়েত বিপ্রদাশ বড়ুয়া বেগম মমতাজ জসীম উদ্দীন বেগম রোকেয়া বেলাল হোসাইন বোরহান উদ্দিন আহমদ ম. লিপ্স্কেরভ মঈনুল হোসেন মজিবুর রহমান মন্জু মতিউর রহমান মল্লিক মতিন বৈরাগী মধু মনসুর হেলাল মনিরা চৌধুরী মনিরুল হক ফিরোজ মরুভূমির জলদস্যু মর্জিনা আফসার রোজী মশিউর রহমান মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর মা আমার ভালোবাসা মাইকেল মধুসূদন দত্ত মাওলানা মুহাম্মাদ মাকসুদা আমীন মুনিয়া মাখরাজ খান মাগরিব বিন মোস্তফা মাজেদ মানসুর মুজাম্মিল মানিক দেবনাথ মামুন হোসাইন মারজান শাওয়াল রিজওয়ান মারুফ রায়হান মালিহা মালেক মাহমুদ মাসুদ আনোয়ার মাসুদ মাহমুদ মাসুদা সুলতানা রুমী মাসুম বিল্লাহ মাহফুজ উল্লাহ মাহফুজ খান মাহফুজুর রহমান আখন্দ মাহবুব আলম মাহবুব হাসান মাহবুব হাসানাত মাহবুবা চৌধুরী মাহবুবুল আলম কবীর মাহমুদা ডলি মাহমুদুল বাসার মাহমুদুল হাসান নিজামী মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ মায়ফুল জাহিন মিতা জাহান মু. নুরুল হাসান মুজিবুল হক কবীর মুন্সি আব্দুর রউফ মুফতি আবদুর রহমান মুরাদুল ইসলাম মুস্তাফিজ মামুন মুহম্মদ নূরুল হুদা মুহম্মদ শাহাদাত হোসেন মুহাম্মদ আনছারুল্লাহ হাসান মুহাম্মদ আবু নাসের মুহাম্মদ আমিনুল হক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ মুহিউদ্দীন খান মেজবাহ উদ্দিন মেহনাজ বিনতে সিরাজ মেহেদি হাসান শিশির মো. আরিফুজ্জামান আরিফ মো: জামাল উদ্দিন মোঃ আহসান হাবিব মোঃ তাজুল ইসলাম সরকার মোঃ রাকিব হাসান মোঃ রাশেদুল কবির আজাদ মোঃ সাইফুদ্দিন মোমিন মেহেদী মোর্শেদা আক্তার মনি মোশাররফ মোশাররফ হোসেন খান মোশারেফ হোসেন পাটওয়ারী মোহসেনা জয়া মোহাম্মদ আল মাহী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন মোহাম্মদ নূরুল হক মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ মোহাম্মদ সা'দাত আলী মোহাম্মদ সাদিক মোহাম্মদ হোসাইন মৌরী তানিয় যতীন্দ্র মোহন বাগচী রজনীকান্ত সেন রণক ইকরাম রফিক আজাদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রহমান মাসুদ রহিম রায়হান রহিমা আখতার কল্পনা রাখাল রাজিব রাজিবুল আলম রাজীব রাজু আলীম রাজু ইসলাম রানা হোসেন রিয়াজ চৌধুরী রিয়াদ রুমা মরিয়ম রেজা উদ্দিন স্টালিন রেজা পারভেজ রেজাউল হাসু রেহমান সিদ্দিক রোকনুজ্জামান খান রোকেয়া খাতুন রুবী শওকত হোসেন শওকত হোসেন লিটু শওগাত আলী সাগর শফিক আলম মেহেদী শরীফ আতিক-উজ-জামান শরীফ আবদুল গোফরান শরীফ নাজমুল শাইখুল হাদিস আল্লামা আজীজুল হক শামছুল হক রাসেল শামসুজ্জামান খান শামসুর রহমান শামস্ শামীম হাসনাইন শারমিন পড়শি শাহ আব্দুল হান্নান শাহ আলম শাহ আলম বাদশা শাহ আহমদ রেজা শাহ নেওয়াজ চৌধুরী শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ শাহজাহান কিবরিয়া শাহজাহান মোহাম্মদ শাহনাজ পারভীন শাহাদাত হোসাইন সাদিক শাহাবুদ্দীন আহমদ শাহাবুদ্দীন নাগরী শাহিন শাহিন রিজভি শিউল মনজুর শিরিন সুলতানা শিশিরার্দ্র মামুন শুভ অংকুর শেখ হাবিবুর রহমান সজীব সজীব আহমেদ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সাইদা সারমিন রুমা সাইফ আলি সাইফ চৌধুরী সাইফ মাহাদী সাইফুল করীম সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদূদী সাকিব হাসান সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ সানজানা রহমান সাবরিনা সিরাজী তিতির সামছুদ্দিন জেহাদ সামিয়া পপি সাযযাদ কাদির সারোয়ার সোহেন সালমা আক্তার চৌধুরী সালমা রহমান সালেহ আকরাম সালেহ আহমদ সালেহা সুলতানা সিকদার মনজিলুর রহমান সিমু নাসের সিরহানা হক সিরাজুল ইসলাম সিরাজুল ফরিদ সুকান্ত ভট্টাচার্য সুকুমার বড়ুয়া সুকুমার রায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সুফিয়া কামাল সুভাষ মুখোপাধ্যায় সুমন সোহরাব সুমনা হক সুমন্ত আসলাম সুমাইয়া সুহৃদ সরকার সৈয়দ আরিফুল ইসলাম সৈয়দ আলমগীর সৈয়দ আলী আহসান সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী সৈয়দ তানভীর আজম সৈয়দ মুজতবা আলী সৈয়দ সোহরাব হানিফ মাহমুদ হামিদুর রহমান হাসান আলীম হাসান ভূইয়া হাসান মাহবুব হাসান শরীফ হাসান শান্তনু হাসান হাফিজ হাসিনা মমতাজ হুমায়ূন আহমেদ হুমায়ূন কবীর ঢালী হেলাল মুহম্মদ আবু তাহের হেলাল হাফিজ হোসেন মাহমুদ হোসেন শওকত হ্নীলার বাঁধন

মাসের শীর্ষ পঠিত

 
রায়পুর তরুণ ও যুব ফোরাম

জোনাকী অনলাইন লাইব্রেরী - Jonaaki Online Library © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ